আজ : ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Breaking News

সংসদীয় কমিটি অর্থ পাচার বন্ধে সরকারী সংস্থাগুলোর ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ

সরকার যেখানে বিদেশী বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে, সেখানে অর্থ পাচার বন্ধে ব্যর্থ সরকারী সংস্থাগুলো। এমনকী এখনো পর্যন্ত কাউকে চিহ্নিত করা যায়নি। আর রিজার্ভ চুরির মতো বড় ঘটনা ঘটলেও সেই ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট এখনো প্রকাশ পায়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে এসকল বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।অর্থ পাচার বন্ধে সরকারী সংস্থাগুলোর ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ড. আব্দুর রাজ্জাক। বৈঠকে কমিটির সদস্য অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, আব্দুল ওয়াদুদ, টিপু মুনশি, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, শওকত চৌধুরী ও আখতার জাহান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৩ সালে ৯৯৬ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। গত দশ বছরের প্রতি বছর গড়ে ৫০০ কোটি টাকা করে পাচার হচ্ছে। ওভার ইনভয়েস-আন্ডার ভয়েস করে টাকা পাচার হচ্ছে। ফাইনান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিটের কাজ টা কী? তারা একজনকেও চিহ্নিত করতে পারেনি। এনিয়ে আমরা প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেছি।

কমিটির সভাপতি বলেন, কানাডার বেগম পাড়ায় টাকা পাচার হয়। মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম এ আমরা তৃতীয় হয়েছি। ২০১৫ সালের মে মাসে ৪০০-৫০০ মার্কিন ডলারের চাল ৮০০-১০০০ ডলার দেখিয়ে আমদানি করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখতে হবে। তিনি আরো বলেন, ২০১৪-১৫ সালে ক্যাপিটাল আইটেম দেখিয়ে কী আনা হয়েছে সেগুলো কী দেখা হয়েছে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ড. রাজ্জাক বলেন, প্রতিবেদনটা কেন এখনও রেখে দিয়েছে। আমরা এটা কমিটির কাছে দিতে বলেছি। অথচ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, কমিটির সব সদস্যরা মনে করে ৮০ মিলিয়ন ডলার যেট গেছে সেটাতো গেছে। কিন্তু দেশের ভাবমূর্তিটা বড় বিষয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করাটা জরুরি। কারা দায়ী সেটা বের করতে পারলে অন্যান্য দেশও এ বিষয়ে সজাগ হতে পারবে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভের আট কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপিন্সে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাকে বিশ্বের অন্যতম বড় সাইবার চুরির ঘটনা বলা হচ্ছে। এ ঘটনায় সাবেক গভর্ণর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

গত ৩০ মে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। গত ২১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সাংবাদিকদের জানান তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ঈদের (ঈদুল ফিতর) পর প্রকাশ করা হবে। এর আগে গত ২ জুন বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন তিনি চলতি অধিবেশনেই রিজার্ভ চুরির বিষয়ে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেবেন। কিš’ প্রতিবেদনটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

চুরি যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া তরান্বিত করার পদক্ষেপ হিসেবে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করতে ফিলিপিন্সে সংসদীয় প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, ফিলিপিন্সে নতুন সরকার এসেছে। সিনেট কমিটিও নতুন। টাকা ফেরত আনার বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক সহযোগিতা করছে। এখন ফিলিপিন্সের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আমরা কথা বলতে চাচ্ছি।

তিনি বলেন, যেহেতু তারাও রাজনীতিক, আমরাও রাজনীতিক, সেজন্য রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করতে সিনেট কমিটি, ওদের আইনমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা যায় কীনা সেটা প্রস্তাব দিয়েছি। সরকার এখন বিষয়টি বিবেচনা করবে।

এবি ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার বিষয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে বেসরকারি ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এবিষয়টি জানানো হয়েছে। এবি ব্যাংকের অফশোর ইউনিট থেকে চার বিদেশি কোম্পানির নামে ৪ কোটি ২৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার (৩৪০ কোটি টাকা) পাচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবি ব্যাংক স্বীকার করেছে, তাদের কিছু ভুল ও ব্যর্থতা ছিলো। তবে ৪০ শতাংশ টাকা তারা রিকভারি করেছে। বাকিটা আনবে। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এর মধ্যে ব্যবস্থা না করলে বাংলাদেশ ব্যাংক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.