আজ : ২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Breaking News

শর্ত মানলে সন্ত্রাস বন্ধ হবে বিএনপির কথায় প্রতীয়মান

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । ছবি ফোকাস বাংলা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির কথায় প্রতীয়মান হয় যে তাদের শর্ত মানলে সন্ত্রাস বন্ধ হবে। আর শর্ত না মানলে জঙ্গিবাদ বন্ধ হবে না।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সাংসদ দীপু মনির এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ও জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে বিএনপির যেসব বক্তব্য আসছে, তাতে খুব স্বাভাবিক ও প্রচ্ছন্নভাবেই মনে হয়, তারা একটা শর্ত দিচ্ছে। এটা করেন, তা না হলে সন্ত্রাস বন্ধ হবে না। জঙ্গিবাদ বন্ধ হবে না। সাধারণ মানুষের মনে হবে, তারাই জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের মদদদাতা; কোনো না কোনোভাবে তাদের একটা মদদ রয়েছে, উৎসাহ রয়েছে। কাজেই শুধু তাদের শর্তটা মানলে তারা এটা বন্ধ করে দেবে। এটাই তাদের কথাবার্তায় প্রতীয়মান হয়।’
সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লিখিত প্রশ্ন করেন। কিন্তু তাঁর অনুপস্থিতিতে দীপু মনি প্রশ্ন করেন সংসদে এবং একটি সম্পূরক প্রশ্নও করেন তিন
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জঙ্গিবাদ বিশ্বব্যাপী ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে আমরা অগ্নিসন্ত্রাস বন্ধ করে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত রেখেছিলাম। কিন্তু এই ১ জুলাইয়ের ঘটনা আমাদের ভাবমূর্তি যেমনি নষ্ট করেছে, তেমনি এটাও ঠিক যে সারা বিশ্বে এটা ঘটেই যাচ্ছে।’

শান্তির ধর্ম ইসলামের নাম নিয়ে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড চালানো কেন? এমন প্রশ্নে রেখে শেখ হাসিনা বলেন, এর মাধ্যমে ইসলাম ধর্মকে হেয় করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্মকে বিশ্বের কাছে একটি সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্মপ্রাণ। আমরা ধর্ম পালন করি। আর আমাদের এই ধর্ম সম্পর্কে যখন কোনো রকম খারাপ কথা হয়, সেটা সত্যি আমাদের খুব কষ্ট লাগে। যারা এ ঘটনাটা ঘটাচ্ছে, তাদের আশ্রয়দাতা, অর্থদাতা, প্রশিক্ষণদাতা বা জানি না কারা তাদের মাথায় এ ধরনের উদ্ভট চিন্তা ঢোকাচ্ছে বা উৎসাহিত করছে—সেটাই হচ্ছে দুশ্চিন্তার বিষয়।’

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওরা একটি রাজনৈতিক দল। যার জন্ম হয়েছিল হত্যা-ক্যু-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর। এই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেই বিএনপি যুদ্ধাপরাধী জামাতের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে। যত রকমের সন্ত্রাসী-জঙ্গি কার্যক্রম দেখছেন, একটু যদি গোড়ার দিকে দেখেন, যে নামেই যেভাবেই আসুক না কেন, এদের পরিচয়টা যদি আমরা নিতে চাই; কোন কলেজে, কোথায় পড়েছে, কোন স্কুলে পড়েছে, কোন দল করেছে, তাহলে কিন্তু জানা যায় এরা কোন দলের থেকে উঠে এসেছে। এদের উত্থানটা কোথা থেকে। এভাবেই কিন্তু তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এরা আসার পর সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এদের মদদ দিয়ে যাচ্ছে।’

কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরেকটা ঘটনা ঘটানোর জন্য তারা প্রস্তুত ছিল। সঠিক সময় পদক্ষেপ নিয়ে অত্যন্ত সাহসিকতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দমন করে। গোলাগুলিতে নয়জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে এবং একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আল্লাহর রহমত, আরেকটা দুর্ঘটনা থেকে আল্লাহ দেশ-জাতিকে রক্ষা করেছেন।’

সারা দেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্য হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশবাসীকে বলব, সবার সচেতনতা দরকার। সমগ্র দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ হলে আমরা এ অবস্থা মোকাবিলা করতে পারব। আজকে দেশবাসী কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সবাই সচেতন। পিতামাতা-শিক্ষক-অভিভাবক—সবাই সচেতন। তাদের সন্তানেরা কেউ যেন কোনোভাবে কোনো বিপথে না যায়—আমরা দেশবাসীকে সেই আহ্বান জানিয়েছি। অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করে দলীয় ও জোটগতভাবে যে যার অবস্থানে থেকে জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। পৃথিবীর কাছেও এটা একটা দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে। ইনশা আল্লাহ জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের হাত থেকে আমরা মুক্ত করব। আর এদের যারা উৎসাহিত করবে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজীর আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানো হবে না। কারণ, এখন দেশে সেশনজট নেই। ২২-২৩ বছরের মধ্যে ডিগ্রি পাস করে ফেলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.