আজ : ২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Breaking News

যমুনায় হচ্ছে ৫ কিলোমিটারের রেলসেতু

ঢাকা : রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ করে দিয়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু। এ সেতুতে আছে রেলপথও। তবে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ধীরগতিতে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। এজন্য যমুনা নদীতে বঙ্গবন্ধু সেতুর পাশ দিয়ে পৃথক রেলসেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘের আলাদা ডুয়েল গেজ লাইনের এ রেলসেতু নির্মাণ হবে। এজন্য ৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘যমুনা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্প’ প্রস্তাব করেছে রেল মন্ত্রণালয়।

রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৮৭৭ কিলোমিটার রেলপথ আছে। আগামী ১০ বছরে তা ৪ হাজার ৭৩০ কিলোমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা আছে সরকারের। বর্তমানে ২৮টি ট্রেন বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করে, ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরো বাড়বে।

এছাড়া, ২০১৮ সালের মধ্যে মংলা পোর্ট রেললাইন নির্মাণের কাজ শেষ হলে এবং রেল নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি পেলে ২০২৩ সালের মধ্যে রেলে চলাচলের পরিমাণ ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এমতাবস্থায় জাতীয় ও উপ-আঞ্চলিক রেল চলাচল চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে একটি ডেডিকেটেড রেলসেতু নির্মাণের গুরুত্ব উপলব্দি করে ‘যমুনা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্প’ প্রস্তাব করেছে রেল মন্ত্রণালয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীতে বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘের আলাদা ডুয়েল গেজ লাইনের এ রেলসেতু নির্মাণ হবে। ‘যমুনা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্প’ এর ব্যয় ধরা হচ্ছে ৯ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ৭ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা ঋণ দেবে। জাপানের এ ঋণ সহায়তা পেতে ইতোমধ্যে জাইকা ও বাংলাদেশের মধ্যে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এছাড়া, সরকার অর্থায়ন থেকে ২ হাজার ১৫ কোটি টাকা যোগান দেবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৬ থেকে ডিশেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত।

প্রস্তাবিত এ রেলসেতুতে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান থাকবে। সেতুর দুই পাশে দুই রেলস্টেশনে স্বয়ংক্রিয় কম্পিউটার বেজড ইন্টারলিংকিং (সিবিআই) সিগন্যালিং ব্যবস্থা থাকবে। সেতু বরাবর গ্যাস পাইপলাইনও থাকবে। নতুন এ রেলসেতু নির্মাণ হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরো উন্নত হবে। একইসঙ্গে রেলের মাধ্যমে ভারি মালামাল পরিবহনও সম্ভব হবে। চালু করা যাবে প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কন্টেইনার পরিবহন। এতে তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়বে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অর্থায়ন অনিশ্চয়তায় যমুনা রেলসেতু নির্মাণ প্রকল্প ফাইলবন্দি হয়ে পড়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঋণ সহায়তা দিতে জাপান আনুষ্ঠানিকভাবে রাজি হয়েছে। জাপানের এ ঋণ সহায়তা পেতে ইতোমধ্যে জাইকা ও বাংলাদেশের মধ্যে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।’ তাই এখন সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুতই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.