আজ : ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Breaking News

মুসলি-হিন্দু পুরুষের দেওয়া কিডনিতে বাঁচল তাদের স্ত্রীরা

ঈদের আগেই খুশির হাওয়া রাজস্থানের বাসিন্দা আনোয়ার আহমেদের (৪০) সংসারে। মৃত্যুপথযাত্রী স্ত্রীর শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তসলিম জাহান। ধর্মীয় ভেদাভেদ দূরে সরিয়ে তাকে কিডনি দান করেছেন রাজস্থানেরই বাসিন্দা বিনোদ মেহরা।

আনোয়ার বলেন, ”আমার সংসারে ঈদের খুশি এনে দিয়েছে বিনোদ ভাই। আমি তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কিডনি দিয়ে আমার স্ত্রীর জীবন বাঁচানোর জন্য বিনোদ ভাইকে অনেক ধন্যবাদ। আমার স্ত্রী এখন অনেকটাই সুস্থ এবং দ্রুত সেরে উঠছেন। কোরবানির ঈদের আগের দিন সে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবে। বিনোদ ভাইকে আমার শ্রদ্ধা জানাই।”

অন্যদিকে দিওয়ালির আগে বেজায় খুশি বিনোদ মেহরাও। কেন? তার দেওয়া কিডনিতে যেমন আনোয়ারের সংসারে খুশির আমেজ, ঠিক তেমনি আনোয়ারের দেওয়া কিডনিতে সুস্থ হয়ে উঠছেন বিনোদের স্ত্রী অনিতা মেহরা।

বিনোদ বলেন, ”আনোয়ার ভাইয়ের কাছে যদি ঈদ থাকে তবে আমার কাছেও দিওয়ালি আছে। আমার স্ত্রী যখন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাসায় ফিরে আসবে তখন আমার ঘর আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। আনোয়ার ভাইয়ের কিডনিতে আমার স্ত্রী জীবন ফিরে পেয়েছেন। আসলে হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই। আমি জীবনে কখনওই ধর্মের ভেদাভেদ করিনি, আর জীবনে কখনও এমন কাজ করবোও না। কিডনি স্থানান্তরিত করার পর এই দু’টি পরিবার একটা বিশেষ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেল।”

জয়পুরের যে বেসরকারি হাসপাতালে বিনোদ ও আনোয়ারের পরিবারের মধ্যে কিডনি বিনিময় করা হয় সেই হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আশুতোষ সোনি বলেন, ”ধর্মের বেড়া ভেঙে এই কিডনি স্থানান্তরিত করার বিষয়টি অত্যন্ত বিরল, কারণ দুইটি ক্ষেত্রেই কিডনি প্রাপকরা নারী। ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে নারীরাই কিডনি দান করে থাকেন, কিন্তু এক্ষেত্রে পুরুষরাই কিডনি দান করেছেন।”

ডা. সোনি আরও বলেন, কিডনি বিকলের কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিনোদের স্ত্রী গ্লোমেরুলার রোগে ভুগছিলেন। তার রক্তের গ্রুপ বি পজেটিভ। কিন্তু বিনোদের রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ। পাশাপাশি অত্যাধিক ব্যাথা নিরোধক ওষুধ (পেইন কিলার) খাওয়ার ফলে কিডনি সমস্যায় ভুগছিলেন আনোয়ারের স্ত্রী। তার রক্তের গ্রুপ এ পজেটিভ এবং আনোয়ারের রক্তের গ্রুপ বি পজেটিভ। হিউম্যান অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট আইন অনুযায়ী একমাত্র কাছের মানুষরাই কিডনি দান করতে পারেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে দুই দম্পতিই কিডনি স্থানান্তরিত করার উপযুক্ত ছিল। আনোয়ারের সঙ্গে অনিতার রক্তের গ্রুপ মিলেছিল আবার বিনোদের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে মিল ছিল তসলিম জাহানের। গত ২ সেপ্টেম্বর কিডনির সফল প্রতিস্থাপন হয়। কিডনি দানকারী বিনোদ ও আনোয়ার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও আগামীকাল সোমবার দুই কিডনি গ্রহীতা ছাড়া পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.