আজ : ২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Breaking News

বেহালদশায় নগরীর সড়কগুলো !! খাবি খাচ্ছেন মেয়র আহসান হাবীব কামাল

বেহালদশায় পরিণত হয়েছে বরিশাল নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলো। সড়ক নয় শুধু পরিলক্ষিত হয় এবড়ো থেবড়ো,ছোট বড় খানাখন্দ। এসব সড়ক পেরুতে কি যে ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয় নগরবাসীর, যার নাম অন্তহীন দুর্ভোগ! যাত্রীরা আতঙ্ক ভর করে যানবাহনে চলাচল করছে। কখন জানি দুর্ঘটনা ঘটে,এই তো যানবাহন উল্টে গেলো। এরকম শঙ্কা নিয়ে পথ চলতে হচ্ছে যাত্রীদের। পায়ে হেঁটে পথ চলতেও বিরক্তকর পরিস্থিতি। মারাত্মক ঝুকিঁ নিয়ে প্রতিদিন নগরীর বিভিন্নস্থানে জনসাধারন,শিক্ষার্থী,চাকুরিজীবীসহ নানা পেশার মানুষ ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করে আসছে। নগরীর সড়কগুলোর দৃশ্যেই প্রমাণ করে অভিভাবকহীন বিসিসি। বাহির থেকে যে কেউ নগরীতে প্রবেশ করলেই একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে করছেন, ‘যেন মেয়র শূন্য নগর ভবন’। প্রশ্ন তুলছেন এখানকার মেয়র কি খাবি খাচ্ছেন? অর্থাৎ অন্ধকারে হাবুডুবু খাচ্ছেন। আবার কেউ বলছেন, নগরবাসীর নয় নিজের ব্যক্তি আখের গোছাতেই অন্ধকার গলিতে পথ বেয়ে চলছেন। অভিজ্ঞ মহল বলছেন, জনপ্রতিনিধিত্বের বিপরীত ভূমিকায় অবর্তীন হয়ে উল্টো রথে হেঁটে চলার মাশুল আখেড়ে কিন্তু ঠিকই দিতে হবে,রেহাই পাবেন না কোনো ধরণের কারিশমায়। তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর প্রানকেন্দ্র সদর রোড, হাসপাতাল রোড, পলাশপুর,কাউনিয়া প্রধান সড়ক, নতুন বাজার,বাংলা বাজার, পোর্ট রোড,সাগরদিপুল,লাখুটিয়া সড়ক, দিয়াপাড়া সড়ক,ধানগবেষণা রোড, চৌমাথা খান সড়ক, শিল্প নগরীর (বিসিক) রোডসহ বিভিন্নস্থানে সড়কগুলোর চরম বেহালদশা বিরাজমান। এসব সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ। এরমধ্যে সদর রোডে এবরো থেবরো,ছোট,বড় গর্তে একধরণের দৈন্যদশায় পরিণত। ব্যস্ততম এই সড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার রিকশা,অটো-রিকশা,সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহন মারাত্মক ঝুঁিক নিয়ে যাত্রীবহন করে চলাচল করছে। সড়কের মধ্যে গর্তের ভিতর বৃষ্টির পানি জমে ছোট ছোট ডোবার আকার ধারণ করেছে। এ সমস্ত বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা গর্তের মধ্যে পড়ে পি-কাপ ভ্যান,অটো-রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে অনেক যাত্রী ও যানবাহনের ক্ষতি সাধিত হয়। এসকল সড়ক দিয়ে কলেজের ছাত্র ছাত্রী,শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মারাত্মক ঝুকিঁ নিয়ে চলাচল করছে। এই বেহালদশায় যানবাহনের চালক-যাত্রী এবং পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। আবার গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কয়েকটি স্থানে ইটের জায়গায় ইট, বালির জায়গায় বালি না থাকায় চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সূত্র বলেছ,নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা অনেক পুরনো। এর সাথে যোগ হয়েছে রাস্তার শোচনীয় অবস্থা। নির্মাণকাজে ত্র“টি, পানি জমে থাকা এবং যথাযথভাবে সংস্কার না হওয়ার ফলে সড়কগুলো খানাখন্দে ভর্তি এবং ডোবাসদৃশ হয়ে ওঠে। অনেক স্থানে সড়কের অবস্থা ক্ষতবিক্ষত। এরফেল জনগণের কষ্টের সীমা থাকে না। প্রতি বছর এমন সমস্যা সৃষ্টি হলেও এর পুনরাবৃত্তি ঘটছে। গতানুগতিক ধাঁচে মেরামতের কাজ করা হলেও সমস্যার গোড়ায় হাত দেয়া হয় না বলে নগরবাসীর ভোগান্তির অবসান ঘটে না। এ বিষয়ে নানা জনে বলছে নানা কথা। বলা হচ্ছে,তাহলে কি নগরীর সড়কগুলো দেখভাল করার কি কেউ নেই। প্রশ্ন উঠেছে এক্ষেত্রে নগর ভবন কি করছে? বলছেন, মেয়র আহসান হাবীব কামাল ও তার গুণধর পুত্র শুধুই লুটপাটের আখড়া বানিয়েছেন সিটি কর্পোরেশন। ওদিকে পোর্ট রোর্ডের বেহালদশা পরিত্রানের কোনো উপায় নেই এরকমই থাকছে থাকবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। বলছেন, বিসিসি মেয়র শুধু লুটপাট ভালো জানেন,তিনি এখন ব্যক্তি আখের গোছাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, সাগরদীপুল সড়কের করুনদশায় জনমনে মেয়রের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুদ্ধ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া পলাশপুরে সড়ক সংস্কারের দাবিতে অতিসম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধনও করেছেন। বিশেষ করে বর্ষ মৌসুমে নগরীর সড়কগুলো এহেন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সচেতন মহল। অপরদিকে নগরীর অন্যতম ব্যস্ততম বানিজ্যিক এলাকা হাটখোলা ও বাজার রোডের সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহালদশায় পরিণত হয়েছে। এসব এলাকা থেকে হেঁটে যাওয়াই দায় হয়ে দাড়িয়েছে। এ বিষয়ে সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামালকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন ব্যবসায়ী সমাজ। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ রোববার দুপুরে মেয়রের সাথে বৈঠক করে তাদের অসুবিধার কথা তুলে ধরেন। পরে সিটি মেয়র কামাল তাদের আস¦স্ত করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরির্দশন করে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এসময় সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান টিপু, মো: ইউনুস, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর কহিনুর বেগম, জাহানারা বেগম, হাটখোলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন হাওলাদার, ইকবাল আহসান আলম, পনা বাবু, এ্যাড. আসাদুজ্জামান টুটুল, শাহ আলমসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, এদিকে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আহসান হাবীব কামাল ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে একের পর এক প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা রেখে চলছেন। নগর ভবনে প্রথম সভায় মেয়র কামাল কর্পোরেশনের আগের মনোগ্রাম থেকে নৌকা বাদ দিয়ে ধানের শীষ সংযুক্ত করেছিলেন। মনোগ্রাম পরিবর্তনের কাজটি বিধিসম্মত না হওয়ায় মন্ত্রণালয় থেকে মেয়র কামালকে সতর্ক করা হলে অত:পর আগের মনোগ্রাম ফিরে পায় কর্পোরেশন। শুধু নামেই মেয়র কাজে জিরো। নেই কোনো ধরণের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড। বরংচ নগর ভবনের অর্থ লুটেপুটে খেতে নানামুখী পন্থায় পথ বেয়ে চলছেন তিনি। তাঁর নানাবিধ দুর্নীতি ও অনিয়মের ফিরিস্তি ধামাচাপা দিয়ে মেয়র পদ টিকিয়ে রাখতে সক্ষমও হয়েছেন। এক্ষেত্রে এখানকার ক্ষমতাসীন দলের কয়েক নেতার সঙ্গে গোপন আতাতে লুটপাটের আখড়া যেন হয়ে উঠছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। জনমনের প্রশ্ন হচ্ছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কি কি উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করছেন মেয়র কামাল? উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাঁর কি ভূমিকা? এ বিষয়ে নানা জনে বলছে নানা কথা। প্রশ্ন উঠেছে কোন পথে হাঁটছেন আহসান হাবীব কামাল? কেউ বলছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের চাবিকাঠি তাঁরই পুত্রধন রুপমের হাতে। কেউ বলছে, নগর ভবনের চাবি কামাল ঘরোনার ওয়ার্ড কাউন্সিলর বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান টিপুসহ কয়েক অনুসারীর হাতে। এই হাবিবুর রহমান টিপুর বিরুদ্ধে রয়েছে এন্তার অভিযোগ। দেশের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট তত্তাবধায়ক সরকারের শাসনামলে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিঁয়ে নগরীর সদর রোডে বিরোধী শিবির আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি বর্ষনের তান্ডবলীলা চালিয়েছিলো টিপু। সেই টিপু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বেশ ক্ষমতার দাপট! তার অঙ্গলী হেলনে সিটি কর্পোরেশনের নানা অন্যায় অনিয়ম রচিত হচ্ছে। বিএনপি তথা জোট সরকারের আমলে যতসব অপকর্মে পকেটে পুরে নিয়েছিলো লাখ লাখ টাকা। আগের মতোই দাপট বহাল থাকায় অবৈধপন্থায় অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। মালিক বনে গেছেন অগাধ বিত্ত বৈভবের। বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর টিপু এখন কৌশলে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় পথ চলছে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছে, এখানকার আ’লীগ ও যুবলীগের কোনো কোনো নেতার ইশারা ইঙ্গিত বাস্তবায়ন করছেন মেয়র কামাল। আর তারা দুর্নীতির অর্থের ভাগও পাচ্ছেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মেয়র আহসান হাবিব কামাল ১০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ হাতে নেন। তাতে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে মেয়র ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ২০ মাসের মাথায় ব্যাপক দুর্নীতি, বিধি না মেনে অর্ধশতাধিক মাস্টাররোল কর্মচারীদের রাজস্ব খাতভুক্ত করা, কর্পোরেশনের মনোগ্রাম পরিবর্তন ও বিভিন্ন মামলা জটিলতায় রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়’র একটি টিম বরিশালেও এসেছিলেন। কর্পোরেশনের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবীব কামাল বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হবার পরে প্রতিষ্ঠানটির সকল ঠিকাদারি কাজ তার অনুসারীরা করতে শুরু করে। এ নিয়ে দরপত্রের সঠিক নিয়ম না মানার অভিযোগ তোলেন সাধারণ ঠিকাদাররা। কয়েকজন সাধারণ ঠিকাদার দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগও দেয়। বিষয়টি অবহিত করা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে। তারা বিভিন্নভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর ই-টেন্ডারের মাধ্যমে বরিশাল সিটি কপোরেশন এর সকল উন্নয়নমূলক কাজ এবং হাটবাজার ইজারা দেবার নির্দেশ দেয়। এসব প্রসঙ্গে মেয়র সব সময়ই একটি কথা রেওয়াজে পরিণত করেছেন যে বরাদ্ধ না থাকায় উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করা সম্ভব হচ্ছে না। সবমিলিয়ে বরিশাল নগরবাসীর দু:খ দুর্দশা দেখার কেউ নেই,সবই কথার বুলি। কিন্তু কাজের কোনো কিছুই হচ্ছে না। তবে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত সিটি কর্পোরেশন এ তথ্যের সত্যতা অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে। নগরবাসীর এরকম পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন নগরবাসী। অবশ্য বিসিসি মেয়রের অনিয়ম দুর্নীতির ফিরিস্তি’র ফাইলগুলো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে একাধিকবার পৌঁছে। মেয়র আর তার গুণধর পুত্রের দুর্নীতির আদ্যপান্ত’র ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছামাত্রই গায়েব হয়ে যায় বলে অসমর্থিত সূত্রের ভাষ্য। কারণ হিসেবে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কোনো এক ভদ্রলোকের সঙ্গে মেয়র কামালের রয়েছে গভীর সখ্যতা। কে সেই ব্যক্তি,যিনি দুর্নীতির ফাইলগুলো গায়েব করছেন, প্রশ্নটি থেকেই যায়। এরফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ওই ফাইলগুলো যাচ্ছে না। কৌশলে মেয়রের ঘনিষ্ট কোনো ব্যক্তি হয়তবা রিসিভশন থেকেই গায়েব করে ফেলেন মেয়রের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফাইল। এসব কারণে বরিশাল নগরবাসীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি কামনা করেছেন অভিজ্ঞমহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.