আজ : ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং , ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

নেশার কাছে মূল্যহীন শিশুকন্যার ইজ্জত!

মোঃ বশির আহাম্মেদ ঃ শিশুকণ্যার ইজ্জত বিক্রি করলো নেশাগ্রস্ত পিতা। ঘটনাটি ঘটেছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের বড় রঘুনাথপুর গ্রামের মৃধা বাড়ি। গত ৭ জুলাই জাকির মৃধার শিশু কন্যা ইয়ানুর (৬) কে ঘরে ডেকে নেয় একই বাড়ির মৃত আবদ্দুল কাদের মৃধার পুত্র নান্নু মৃধা (২৫)। পরে একটি কক্ষের মধ্যে আটকে ধর্ষণ করে ওই বখাটে। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করা হয়। কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয় শিশুটিকে।
কিন্তুু শিশুটির নিতম্বে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করায় পরের দিন বিষয়টি জানাজানি হয়।ওমান প্রবাসী ধর্ষিতা শিশুর মা শাহিদা বেগম জানান, ঘটনার পরের দিন তিনি ফোন করলে বিস্তারিত জানতে পারেন। ঘটনা শোনার পরপরই তার পিতা জাকির মৃধার সাথে শিশু কন্যাকে বাকেরগঞ্জ থানায় পাঠিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা হয় বাকেরগঞ্জ থানার এএসআই সজল রায় ও এএসআই ফারুক হোসেনের সাথে সেখানে নাটকীয় অবতারনা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে সজল রায় জানান,ধর্ষিতা শিশুর পিতা জাকির মৃধা মামলা করতে রাজি নয়, এ কারনে তাদের কিছুই করার নেই।
অপরদিকে শিশুর বড় ভাই রবিউল মৃধা এবং স্থানীয় বিভিন্ন সুত্র জানিয়েছে ৮ জুলাই বাকেরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
শিশুর মা শাহিদা বেগম ওমান থেকে ভিডিও কলে সাংবাদিকদের কাছে ধর্ষকের কঠোর শাস্তি দাবী করেন। তিনি বলেন এ কারনেই বাকেরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন খুদার তারনায় বিদেশে এসে জীবন বাজি রেখে সন্তানের জন্য কাজ করছি। যে সন্তানদের জন্য দেশের সবকিছু ছেড়ে প্রবাস জীবন – যাপন করছি সেই সন্তানের ধর্ষকদের বিচার না হলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় নেই।
স্থানীয়রা জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ধর্ষিতা শিশুর পিতা জাকির মৃধা নেশাগ্রস্ত। এ কারনে তার কোন তালঠিক নেই। ধর্ষকের পরিবার থেকে কিছু টাকা-পয়সা পাওয়ায় নেশার ঘোরে সন্তানের জীবনের কথা ভুলে গেছেন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম অভিযোগ দায়েরের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন অভিযোগ না পেলে আমাদের কিছুই করার নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাধবী রায় বলেন আপনার আমার চেয়ে শিশুর পিতা মাতাই বড় অভিভাবক তাদের সহয়তা না পেলে সেটি শিশুর জন্য দুর্ভগ্য। অভিভাবক জটিলতার কারনে শিশুটি কী বিচারহীনতায় ভুগবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মাধবী রায় ওসির সাথে কথা বলে ব্যাবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.