আজ : ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Breaking News

নলছিটিতে কৃষকের টাকা আত্মসাৎ

বরিশাল অফিস : নলছিটি উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পলাশ সরকারের বিরুদ্ধে কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য গাভী পালন প্রকল্পে বরাদ্দকৃত বিশ্বব্যাংকের বিপুল পরিমানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে , এছাড়াও সরকারি চাকুরী বিধি লঙ্ঘন করে প্রায় ৯বছর যাবৎ তিনি অদৃশ্য খুটির জোরে নলছিটিতে অবস্থান ও চাকুরী করে দুর্নীতি,অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে রয়েছেন বহাল তবিয়তে রয়েছেন। শুধু তাই নয়,বিগত ৯ বছর ধরে ২টি পদ (উপজেলা প্রাণিসস্পদ কর্মকর্তা এবং ভেটেরিনারি সার্জন) আকড়ে ধরে প্রাণিসম্পদ দপ্তরটিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের আকড়ায় পরিণত করেছেন তিনি। এভাবে নিজেকে অবৈধ অর্থ ও সম্পদের পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে গেছেন ডাঃ পলাশ সরকার। অভিযোগে জানা গেছে, ইন্টিগ্রেটেড এগ্রিকালচারাল প্রোডাক্টিভিটি প্রোজেক্ট (আইএপিপি) প্রকল্পের বরাদ্দকৃত টাকায় ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে নলছিটি উপজেলার কাঠিপাড়া ও কুমারখালী গ্রামে গাভী পালনের ২টি গ্রুপ গঠন করা হয়। কাঠিপাড়া প্রকল্পে বছরের শুরুতে গ্রুপ সদস্যদের ১দিন প্রশিক্ষণ দিয়ে বরাদ্দকৃত ৯০হাজার ৭শ’ টাকার ২৮হাজার ৬’শ টাকা প্রদান করে বাকী ৬২ হাজার ১’শ টাকা আত্মসাত করেন। কুমারখালী গ্রামের গাভী পালনের গ্রুপকে কোন প্রশিক্ষণ না দিয়ে বরাদ্দকৃত ৯৪ হাজার ৭’শ টাকা থেকে ৬৩ হাজার ৯’শ টাকাই আত্মসাত করেন নলছিটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পলাশ সরকার। তিনি উপজেলার ২টি প্রকল্প থেকে বরাদ্দকৃত ১লাখ ৮৫ হাজার ৪’শ টাকা থেকে ১লাখ ২৬ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করেছে ওই দুই গ্রুপের সদস্যরা। এতে কৃষকরা ক্ষুদ্ধ হয়ে আইএপিপি প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে স্বাক্ষর করেন কাঠিপাড়া গ্রুপের আবু সুফিয়ান,মোঃ নুরুল হক,ফারুক হাওলাদার,আঃ জলিল মল্লিক, মোঃ সাজ্জাদ এবং কুমারখালী গ্রুপের মোঃ সাইদুল ইসলাম, মোঃ এনামুল তালুকদার, মোঃ কবির হোসেন, সেকান্দার তালুকদার, ইউসুফ আলী হাওলাদার। প্রসঙ্গত,নলছিটিতে বিশ্বব্যাংকের এই আইএপিপি প্রকল্প ২০১১-২০১২ অর্থবছর থেকে শুরু হয়। আর গত ৫ অর্থ বছরে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পলাশ সরকার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৯০টি ওয়ার্ডের শতাধিক গ্রামে গৃহিত এই প্রকল্প থেকে প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে বঞ্চিত উপকার ভোগীরা (চাষীরা) অভিযোগ করেছেন। জানা গেছে, ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে তিনটি ইউনিয়নের রিটানিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি,অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন জনপ্রতিনিধি সাংবাদিকদের জানান,নির্বাচনের সময় পলাশ সরকার প্রায় ৩০লক্ষ টাকার অর্থ বাণিজ্য করেছেন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় নলছিটি ডিগ্রী কলেজ কেন্দ্র দায়িত্ব পালনকালে পলাশের বিরুদ্ধে নকলে সহায়তা করার অভিযোগ ওঠে,যা বিভিন্ন জাতীয়,স্থানীয় ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও প্রজননের প্রয়োজনে জনস্বার্থে এলাকাবাসী কর্তৃক আল্লাহর নামে ছেড়ে দেওয়া ষাঁড়কে অসুস্থ্য ও রোগাক্রান্তের সার্টিফিকেট দিয়ে একাধিক বার অর্থ বাণিজ্য করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পলাশ সরকারের সাথে তার মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.