আজ : ৩০শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Breaking News

ত্রাণমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি কাদের সিদ্দিকীর

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম অভিযোগ করেছেন, বন্যা দুর্গতদের একজন মানুষের কাছেও সরকারের এক ছটাক ত্রাণ পৌছাতে পারেনি ত্রাণ মন্ত্রণালয়। দুর্যোগ ত্রাণমন্ত্রী দেশে বন্যা দুর্গত সাহায্য করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। এজন্য তাকে পদত্যাগ করতে হবে। অথবা সরকার তাকে বরখান্ত করা উচিত। কারণ বন্যায় প্রত্যক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে সরকারের কোনো ত্রাণ পৌছায়নি।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবীর এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে হাবিবুর রহমান তালুকদার খোকা, শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, অ্যাডভোকেট মাহবুব হাসান রানা, কাউসার জামান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত ৮ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত বন্যা দুর্গত এলাকায় তার অবস্থান এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তার মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে বঙ্গবীর এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

এতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আরো বলেন,সরকারের তরফ থেকে নিয়মিতভাবে যে ত্রাণ পাওয়া যায় সেগুলো স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের হাতে গেছে। ভাগ-ভাঁটোয়ারা সেখানেই হযেছে। তিনি ব্রহ্মপুত্র অববাহিকার কয়েকটি এলাকায় বন্যায় জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি এসব এলাকাকে বন্যা দুর্গত এলাকা বলে ঘোষণা দিতে সরকারের কাছে আহবান জানান। তিনি বলেন, সরকার সব সময় বলে থাকের তারা জনগণের সরকার। তারা যদি সত্যিই জনগণের সরকার হয়ে থাকে তাহলে তাদের উচিত হবে এই সময়ে জনগণের পাশে দাড়ানো। তিনি বলেন, ত্রাণমন্ত্রী যদি ব্যর্থতার দায় দায়িত্ব স্বীকার না করেন তাহলে তাহলে ধরে নেয়া হবে সরকারই ব্যর্থ হবেন।

বঙ্গবীর বলেন ,১৯৭৫’র ১৫ আগস্টে সেদিন প্রতিবাদ না করলে আওয়ামী লীগ মাটির নিচে থাকত। কিন্তু এব্যাপারে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে থেকে সম্প্রতি দেয়া বক্তব্যে না আসাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আজকে অনেক বঙ্গবন্ধু প্রেমিক আছে। আজকে বঙ্গবন্ধুর জন্য কান্নাকাটি করে মুখে ফেনা তোলার জন্য লোকের অভাব হবার কথা নয়। তবে ১৯৭৫’র পনের আগস্ট পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কথা বলার লোকের অভাব ছিল। এমনকি বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে অনেকে দাঁত বের করে হেসেছিল।

বঙ্গবীর বলেন, ’সেদিন আমি বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রতিবাদে প্রথম কাতারে ছিলাম, অনেকের জেল জরিমানা ফাঁসি হয়েছে,শাস্তি হয়েছে। ঐ সময়ে প্রতিবাদ করার কারণে অনেকে দুস্কৃতিকারী হয়েছেন। তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি,এখনো পারছেন না। তিনি বলেন, আজকে দেশে সব্বোর্চ কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে। গাড়ি-বাড়ির অভাব নেই। ’

তিনি বলেন, একদিন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দুই হাজার টাকা সন্মানি ভাতা চাওয়ায় অনেকে পাগল বলেছিল, গালাগালি করা হয়েছিল। তিনি বলে, এখন দু’হাজার থেকে থেকে দশ টাকা হয়েছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৫০ হাজার টাকা সম্মানি ভাতার দাবি জানান। এর পাশাপাশি ১৯৭৫’র পনের আগস্টে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের স্বীকৃতি এবং তাদের জন্য ৪৯ হাজার টাকা সম্মানি ভাতা দেয়ার দাবি জানান।

দেশের অবস্থা এখন সত্যিই খারাপ
দেশের সাম্প্রতিকি পরিস্থিতির ওপর বক্তব্য রাখতে গিঢে বঙ্গবীর বলেন, তিনি বলেন, যে যা-ই বলুক দেশের অবস্থা এখন সত্যিই খারাপ। কারো প্রতি কারো বিশ্বাস নেই। আজকে এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ সব চাইতে খারাপ অবস্থানে আছে। একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের জন্য এমন দুঃসময় মনে আর কখনো আসেনি। সরকারের সুসময় হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের একেবারে দুঃসময়। তাদের সাংগঠনিক কোনো ভিত্তি নেই। দল চর দখলকারীদের কাছে বে-দখল হয়ে গেছে। এধরনের পরিস্থিতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে একটি জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে আহবান জানান। তিনি বলেন, সরকার এখন সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গঠন করতে না পারলে তাকে ব্যর্থতার গ্লানি সহ্য করতে হবে। কারণ সময় বয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.