আজ : ১৯শে আগস্ট, ২০১৯ ইং , ৪ঠা ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Breaking News

তাদের এখন সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ : জয়

পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক অভিযোগ তোলার পর বাংলাদেশের যারা দুর্নীতির কথা বলে গলা চড়িয়েছিল, তাদের এখন সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ বলে মনে করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। এই প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ কানাডার আদালতেও নাকচ হয়ে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জয় ফেইসবুকে লেখা প্রতিক্রিয়ায় এই মত প্রকাশ করেছেন।
বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন জানিয়েছিল। তবে প্রকল্পে কানাডীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের একটি ষড়যন্ত্রের তথ্য মেলার কথা জানিয়ে মামলা করেছিল দুদক। তার পাঁচ বছর পর শুক্রবার কানাডার আদালতের দেওয়া রায়ে বাংলাদেশের এই প্রকল্পে তার দেশের কোম্পানির বিরুদ্ধে বিশ্ব ব্যাংক উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের কোনো প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানায়। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জয় লিখেছেন, ‘এই মিথ্যা তৈরি করেছে বিশ্ব ব্যাংক। পুরো উপাখ্যান চলাকালে আমি তাদের এই সব প্রমাণাদি দেখেছি। এতে সুনির্দিষ্ট-বিস্তারিত কিছু নেই, যা সুস্পষ্টভাবেই বানানো। রয়েছে কেবল একটি বেনামী সূত্র, যা এমনকি কানাডার আদালতের কাছেও প্রকাশ করা হয়নি। সুতরাং তারা অভিযোগ দায়ের করেছে, কিন্তু দাবির পক্ষে প্রমাণ দিতে অস্বীকার করেছে।’ ‘আমার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সুনামহানি করতে বিশ্ব ব্যাংক এই ষড়যন্ত্র করেছে,’ বলেন জয়। জয় লিখেছেন, ‘এটা লজ্জাজনক যে, আমাদের সুশীল সমাজের একটা অংশ দ্রুত আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে ও বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষে অবস্থান নেন। তারা বেশ কয়েকজন পরিশ্রমী, সম্মানিত যোগ্য মানুষের গায়ে কালিমা লেপন করেছেন যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তারা দেশপ্রেমিক নয়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ সরকার এবং ‘সম্মান ক্ষুন্ন হওয়া’ ব্যক্তিদের কাছে ওই সমালোচকদের ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ এখন পাওনা বলে মন্তব্য করেছেন জয়। ‘বাংলাদেশের কাছেও তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিৎ,’ বলেছেন তিনি।
পদ্মা নদীর উপর ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাংক প্রথমে অর্থায়ন স্থগিত করে। এরপর ফিরে এলেও দুর্নীতির তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তারা। এনিয়ে মনকষাকষির এক পর্যায়ে তাদের বাদ দিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। মায়ের মতো জয়ও বলেন, ইউনুসের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বাংলাদেশ সরকারকে শায়েস্তা করতে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বাতিল করতে বিশ্ব ব্যাংককে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জয় জানান, বাংলাদেশ সরকারকে হিলারির হুমকি সম্বলিত বার্তা পৌঁছে দিতে তার সঙ্গেও তখন কয়েকবার যোগাযোগ করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.