আজ : ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Breaking News

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে জাতীয় ঐক্যের আহবান

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে প্রথম থেকেই জাতীয় ঐক্য গড়তে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে আসছেন খালেদা জিয়া। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে সকল ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে সরকারসহ সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন তিনি।

খালেদা জিয়ার এই ঐক্যের আহবানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। ইতিমধ্যে সরকারের প্রভাবশালী দুইমন্ত্রী  অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে খালেদা জিয়ার ঐক্যের আহবানকে স্বাগত জানিয়েছেন।

প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি  জাতীয় ঐক্য ও জঙ্গিবাদবাদ বিরোধী ফর্মুলা নিয়ে আসছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই ফর্মুলার প্রধান লক্ষ্য  আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস,  জঙ্গিবিরোধী ও জাতীয় ঐক্য গঠন। পাশাপাশি জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য স্থাপন করা। এভাবে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।

বিএনপি মনে করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টির মূলে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই দায়ী। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা না থাকার সুযোগেই দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্রান্ত কাজ করছে। এ কারণে সরকারকে নিয়েই জাতীয় ঐক্য গঠন করতে আগ্রহী বিএনপি।

খালেদা জিয়া ৩ জুলাই সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের আহবান জানান। ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পর খালেদা জিয়া বলেছিলেন,  কে ক্ষমতায় থাকবে, কে ক্ষমতায় যাবে, সেটা আজ বড় কথা নয়। আজ  আমরা যারা আছি, আগামীতে তারা কেউ হয়তো থাকবো না। তাই কালবিলম্ব না করে, আসুন আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে দলমত নির্বিশেষে সন্ত্রাস বিরোধী ঐক্য গড়ে তুলে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন  সরকারকে বাদ রেখে জাতীয় ঐক্য গঠন অসম্ভব এবং অর্থহীন। বিএনপির ভেতরে ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঐক্যের ফর্মুলার রূপরেখা তৈরি করবেন খালেদা জিয়া। তবে তিনি জঙ্গিবাদ শব্দের স্থলে উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ প্রয়োগ করতে পারেন বলে সূত্রটি জানিয়েছেন।

বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, জাতীয় ঐক্য মানেই সব দল একত্রে কাজ করা। সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় সব দলকে এক সারিতে আসা জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারকে বাদ রেখে ঐক্য সম্ভব নয়। কিসের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গঠন হবে, এ নিয়ে আসন্ন বৈঠকগুলোয় আলোচনা হবে। এই আলোচনায় সাংগঠনিক ও জোটগত মতামতকেও গ্রহণ করবেন খালেদা জিয়া।

এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, পরিস্থিতির চাপ হচ্ছে জাতীয় ঐক্যের। আর এই ঐক্যের ভিত্তি কী হবে, এ নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী নির্বাচনকে কতটা সামনে আনা যায়। দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হলে যেকোনও অগণতান্ত্রিক শক্তিই পিছিয়ে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.