আজ : ২৬শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ , ১২ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
Breaking News

উত্তরে বন্যার পানি কমেছে

উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি আরও কমেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা বানভাসি মানুষ ঘরে ফেরা শুরু করলেও দুর্ভোগ পিছু ছাড়েনি তাদের। নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব। কারও কারও ভিটেমাটি থাকলেও দরজাটুকু ছাড়া ঘরের চিহ্নমাত্র নেই। সহায়-সম্বলহীন মানুষের একদিকে খাদ্যের অভাব, অন্যদিকে নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই। এ অবস্থায় চোখে অন্ধকার দেখছে বানভাসি মানুষ।

গাইবান্ধার সব নদ-নদীর পানি কমে যাওয়ায় ডুবে যাওয়া ঘরবাড়ি জেগে উঠতে শুরু করেছে। এতে বিভিন্ন সড়ক, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষ বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। তবে জলাবদ্ধতা, ধসে যাওয়া ঘরবাড়ি সংস্কার, বিশুদ্ধ পানির অভাব তাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য সমস্যা তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। দীর্ঘদিন থেকে কর্মহীন থাকায় দিনমজুর, কৃষি শ্রমিকদের হাত শূন্য। ঘরবাড়ি মেরামত করার মতো আর্থিক সঙ্গতি তাদের নেই। সেইসঙ্গে নদী-তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হওয়ায় আরও দিশেহারা তারা।

সদর উপজেলার কামারজানি উপজেলার গো-ঘাট, ফুলছড়ির দেলুয়াবাড়ি, কাতলামারীর রতনপুর. ফজলুপুরের চন্দনশ্বর, খাটিয়ামারী, কুচখালী, গজারিয়ার গলনা এবং সাঘাটার গোবিন্দি ও হলদিয়া এলাকায় ব্যাপক নদী ভাঙনে গত দু’দিনে দু’শতাধিক বাড়িঘর ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে। আরও সহস্রাধিক বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়ায় লোকজন সে সব অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে ১৩২টি পরিবার। এর মধ্যে শিলখুড়ি ইউনিয়নের ১১টি, তিলাই ইউনিয়নের ৩১টি, আন্ধারীঝাড়ের ৪১টি, বঙ্গসোনাহাটের ৬৩টি ও বলদিয়া ইউনিয়নের ১২টি পরিবার রয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে এখন নিঃস্ব তারা। ভিটেমাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নতুন করে দূর্ভোগে পড়েছেন এসব পরিবারের ৬৩২ সদস্য।

উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউপি চেয়ারম্যান ডা. শাহজাহান আলী মোল্লাহ ও আন্ধারীঝাড় ইউপি চেয়ারম্যান রাজু আহম্মেদ খোকন বলেন, এখন নদী ভাঙন ঠেকানো জরুরি হয়ে পড়েছে। যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে এতে অল্প সময়ের মধ্যে আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।

পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় পাঠদান বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা জানান, স্কুল বন্ধ থাকলে বাচ্চারা বাড়িতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে চায় না। স্কুল থাকলে পড়ার প্রতি মনোযোগ থাকে।

চাটমোহর উপজেলার করকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব, হাসনাহেনা ও আমজাদ জানায়, পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয়ে বাবা-মা তাদের স্কুলে যেতে দেন না। ব্রহ্মপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র মিজানুরের মা অহেদা খাতুন জানান, অনেক পানি, তাই জীবনের ভয়ে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাননি।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের বন্যাকবলিত আড়াইশ’ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে । গতকাল দুপুরে উপজেলার কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধে ত্রাণ বিতরণ করেন বগুড়া-১ আসনের সাংসদ কৃষিবিদ আবদুল মান্নান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহাদারা মান্নান, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশীদ ফারাজী, মতিউর রহমান মতি, কাজলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদ সরকার প্রমুখ।

এদিকে, প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিন দিন ধরে প্লাবিত পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা। এখানকার বিভিন্ন গ্রামের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে বেড়েছে নদী ভাঙন। কচা নদীর অবিরাম ভাঙনে উপজেলার টগড়া গ্রামের শতাধিক বসতঘর, বেড়িবাঁধ ও কৃষিজমি বিলীনের পথে। উপজেলার খোলপটুয়া, চরবলেশ্বর, চণ্ডীপুর, ইন্দুরকানী, চাড়াখালী ও কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দারা সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.