আজ : ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

‘শিশুর অঙ্গে যেভাবে আঘাত করা হয়েছে তা চিকিৎসা জীবনে দেখিনি’

বাংলাদেশে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার যে শিশুটিকে এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে, তার শারিরীক ও মানসিক অবস্থাকে খুবই সংকটজনক বলে উল্লেখ করছেন চিকিৎসকেরা।

গত ১৮ই অক্টোবর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার একটি গ্রামে এই শিশুটিকে ধর্ষণ করে মাঠে ফেলে রাখা হয়েছিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেপুটি ডিরেক্টর ড: খাজা আব্দুল গফুর বলেছেন এই ছোট্ট মেয়েটির ওপর যে ধরনের পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, তাঁর চিকিৎসা জীবনে তিনি এমনটি আর দেখেননি।

মি: গফুর জানিয়েছেন, পাঁচ বছরের ওই শিশু এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, আতঙ্কিত এবং ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে আছে।
“ওই শিশুর প্রজনন অঙ্গে ধারালো অস্ত্র দ্বারা যেভাবে আঘাত করা হয়েছে, তাতে করে সেখানে অনেক ক্ষত তৈরি হয়েছে। শরীরের অন্যান্য জায়গাতেও ক্ষত রয়েছে। তবে প্রজনন অঙ্গের আঘাত অনেক খারাপ অবস্থায় আছে”-জানালেন ডা: গফুর।

শিশুটিকে নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় ইতোমধ্যেই এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়, কিন্তু এই শিশুটির ওপর যেভাবে আঘাত করা হয়েছে তা বিকৃত মানসিকতা ও পাশবিকতার পরিচয় হিসেবে চিহ্নিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

“ভবিষ্যতে যে কোনও পুরুষ দেখলে আতঙ্কিত হতে পারে শিশুটি,” বলছেন ডা: খাজা আব্দুল গফুর।
ডা: খাজা আব্দুল গফুর বলছিলেন, “শিশুটির প্রজনন অঙ্গে যে ধরনের আঘাত করা হয়েছে, এ ধরনের ক্ষত সৃষ্টি করার মতো ঘটনা আগে দেখিনি বা শুনিনি।”
পাঁচ বছরের শিশুটির চিকিৎসার জন্য আট সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তবে দীর্ঘ চিকিৎসায় শিশুটি সুস্থ হয়ে উঠলেও এ ঘটনা শিশুটির মনের ওপর ভবিষ্যতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।
“ভবিষ্যতে যে কোনও পুরুষ দেখলে আতঙ্কিত হতে পারে শিশুটি,” বলছেন ডা: খাজা আব্দুল গফুর।

“অনেক সময় পাঁচ বছরের শিশু বড় হয়ে অনেক কিছু ভুলে যায়। তবে বারবার সে যদি সামাজিকভাবে বা পারিবারিকভাবে এ ঘটনা শুনে বড় হতে থাকে, তাহলে সে আরও বেশি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।”

ডা: গফুর বলেন, শিশুটিকে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে যত্নে রাখতে হবে যেন বারবার তাকে এ ঘটনা মনে না করিয়ে দেয়া হয়।
“চিকিৎসকদের সহায়তায় মানসিক ও শারিরীকভাবে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও শিশুটির সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার মূল দায়িত্ব হবে পরিবার ও সমাজের।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.