আজ : ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৫ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

ভিআইপি দের সাথে তোলা সেলফি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে প্রতারণার মহাউৎসব

মোঃবশির আহাম্মদ ঃ বরিশালের বাকেরগঞ্জে রাষ্ট্রপতি ও ভিআইপিদের সেলফি ব্যবহার করে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাজনৈতিক নেতারা গোলকধাঁধায় বিশেষ কর্তৃপক্ষের নীরবতায় সাধারণ মানুষ বিপদে
বরিশালের বাকেরগঞ্জ একটি দুর্ধর্ষ প্রতারণা চক্রের সন্ধান মিলেছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিশিষ্ট কবি শিল্পী সাহিত্যিক অভিনেতা-অভিনেত্রীদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে ওই চক্রটি অভিনব কৌশলে প্রতারণা বানিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। রাষ্ট্রপতিরসহ উল্লেখিত ব্যক্তিদের সাথে প্রতারণা চক্রের প্রধানে ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে পোস্ট করে ধোঁকায় ফেলে মানুষকে প্রভাবিত করাই হচ্ছে ওই চক্রের প্রতারনার প্রধান কৌশল।
বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে এই অভিনব কৌশলের কারণে গোলকধাঁধায় পড়েছে রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ বাহিনী,জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা পর্যন্ত! দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তি থেকে শুরু করে ভিপিদের সাথে তোলা ছবি প্রচার করে বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসনিক এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে প্রতারণা বাণিজ্যও শক্তপোক্ত করেছে এই চক্রটি। এই কৌশলে পিলে চমকানো অপরাধ সংগঠিত করে ও ঝামেলাহীন ভাবে বহালতবিয়তে প্রতারণা। সংশ্লিষ্ট কিংবা বিশেষ কর্তৃপক্ষের পরিস্থিতিগত নীরবতার কারণে প্রতারণার কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে উল্টো বিপদে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রতারণা চক্রের মামলা হামলার হুমকির কারণে মুখ খুলতে পারছেন না অসহায় ভুক্তভোগীরা।
বাকেরগঞ্জের পাদ্রিশিবপুর ইউনিয়নের পারশিবপুর গ্রামের শ্রীকান্তের পুত্র তপন মন্ডল ও তার হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এই দুর্ধর্ষ প্রতারক চক্রের পরিচয় এবং নজিরবিহীন অপকর্মের ফিরিস্তি। শিকার হয়ে সর্বস্ব হারানো তপন মন্ডল জানান ওই প্রতারক চক্রের প্রধান হচ্ছে পরিমল ঠাকুরের পুত্র পবিত্র চক্রবর্তী নামের এক যুবক তার বর্তমান ঠিকানা বাকেরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের বড়পুইয়াউটা গ্রামে। পিতা পরিমল ঠাকুর এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও এই প্রতারক চক্রের সদস্য। ভুক্তভোগী এবং স্থানীয় লোকজন জানান প্রতারক চক্রের হোতা পবিত্র ঠাকুর নিজেকে জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীর পুরোহিত পরিচয় দেন এ কারণে তারা তাকে বিশ্বাস করেছিলেন এছাড়াও রাষ্ট্রপতি সহ একাধিক মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে তোলা ছবি মোবাইলে দেখানোর পরে পবিত্রকে আরো বেশি বিশ্বাস করেন বাকেরগঞ্জ বাঁশি।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তপন মন্ডল এর শ্যালক সজল নামক এক যুবককে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন প্রতারক পবিত্র ঠাকুর। দাবি অনুযায়ী টাকা নেওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দিলে টাকা নিতে তপন মন্ডল এর বাড়ি যেতে পবিত্র ঠাকুর তার পর সমাজসেবা দপ্তরে চাকরি দেয়ার শর্তে তপন মন্ডল ও তার স্ত্রী প্রতারক পবিত্রের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে তার মা ও বাবা পরিমল ঠাকুরের সামনে পবিত্র ঠাকুর এর হাতে ৫ লাখ ৩ হাজার টাকা ঐ দিনই নগদ দেন এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে ঢাকা যাওয়ার কথা বলে আরো ৫ লাখ টাকা দেয়া হয়। সর্বস্ব হারানো ভুক্তভোগীরা জানান গোয়ালের সাতটি গরু বিক্রি করে এবং উত্তম মিস্ত্রি ও শ্রীকান্ত মন্ডল এর নিকট হতে ২ লাখ টাকা চরা সুধে নিয়ে ওই টাকা দেয়া হয়েছে। টাকা নিরাপত্তার জন্য তাদেরকে পবিত্র জনতা ব্যাংকের একটি চেক দেয় যাতে ১০ লাখ টাকা লেখা রয়েছে। প্রতারণার কৌশল অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে তার স্বাক্ষর না দিয়ে ওই চেকটির পিছনে স্বাক্ষর করেন প্রতারক পবিত্র। ভুক্তভোগীরা জানান টাকা নেওয়ার পর পবিত্র চক্রবর্তী এবং তার পিতা-মাতা নয় ছয় কথাবার্তা বলে তাদের সাথে অসদাচরণ করা শুরু করে। একপর্যায়ে নিজেকে রেহাই করতে ঘুষ দেয়া এবং নেয়া সমান অপরাধ উল্লেখ করে বিভিন্ন ধরনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা চালায় প্রতারক পবিত্র। ভুক্তভোগীরা পরে বিভিন্নভাবে অনুনয়-বিনয় করে টাকা ফেরত চাইলে পবিত্র জানায়, পুলিশ বিভাগে চাকরি দেওয়া হবে বলে তাদেরকে আশ্বাস দেন ও কাউকে জানালে চাকরি হবে না বলে ভয় দেখিয়ে পবিত্র তাদের বলেন ঝালকাঠি ও বরিশালের ডিঅাইজি’র সাথে কথা হয়েছে চাকরি অবশ্যই হবে।
তপন মন্ডল ও তার স্ত্রীকে প্রতারক পবিত্র আরো জানান শুধু আপনাদের টাকায় নয় আরো ৫ জনের কাছ থেকে মোট ৪০ লাখ টাকা চাকুরী দেয়ার জন্য নিয়েছি। তাদের টাকা নেয়া হলেও তারা ভয়ে মুখ খুলছেন না ঘুষ দেয়া এবং নেয়া সমান অপরাধ এই ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের মুখ বন্ধ করে রাখেন এই প্রতারক চক্রের প্রধান পবিত্র।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বাকেরগঞ্জ সরকারি কলেজের মেধাবী ছাত্র চাঞ্চল্যকর সজীব হত্যার ভিডিও ধারন করেছিলেন সেলফিবাজ ও প্রতারক পবিত্র।
হত্যা ঘটনা চলাকালীন সময় সজীবের বড় বোন সাজেদা বারবার পবিত্রের কাছে সহযোগিতা চেয়ে অনুরোধ করলেও সহযোগিতা না করে ভিডিও করে বাণিজ্য করার জন্য হত্যাকাণ্ডের। ভিডিও ধারণ করেছিলেন। যাহা গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছিল। (চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.