আজ : ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

বেড়েছে বরিশালে ৫ বছরে মাছের উৎপাদন

বরিশাল অঞ্চলে গত পাঁচ বছরে মাছের উৎপাদন বেড়েছে ১৫ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি।

বরিশালে বিডিএস মিলনায়তনে আজ সোমবার ইউএসএআইডি এআইএন আয়োজিত একটি প্রকল্প সমাপনী কর্মশালায় বক্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মো. বজলুর রশিদ। বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. ওয়াহিদুজ্জামানের এতে সভাপতিত্ব করেন।

প্রকল্প সমাপনী কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন- এআইএন প্রকল্পের চিফ অব পার্টি হেনরিক জ্যান কেউস, ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিতিশ কুমার মল্লিক, ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও পটুয়াখালি জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম, বিএম কলেজের অধ্যাপক মতিয়ার রহমান।

বক্তরা বলেন, মৎস্য অধিদপ্তর ও বিভিন্ন বেসরকারি উদ্যোগে এ অঞ্চলের চাষিদের মাছ চাষে কারিগরি জ্ঞান, উন্নত পোনা ও খাবার ব্যবহারে সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলেই এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে ইউএসএআইডির আর্থিক সহায়তায় আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ফিশ বাস্তবায়িত অ্যাকুয়াকালচার ফর ইনকাম অ্যান্ড নিউট্রিশন (এআইএন) প্রকল্প এই উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে।

তারা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বরিশাল অঞ্চল আগামীতে মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. বজলুর রশিদ জানান, ২০১১ সালে বরিশালে মাছের উৎপাদন ছিল ৮৯ হাজার ৫২২ মেট্রিক। ২০১৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৮১১ মেট্রিক টন। গত পাঁচ বছরে বেড়েছে ১৫ হাজার ২৮৯ মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, ‘এআইএন প্রকল্পের চাষিবান্ধব প্রশিক্ষণ কৌশল ও উপকরণ উদ্ভাবন, উন্নত পোনা ব্যবস্থাপনা, হ্যাচারিতে নদীর উৎসের মা-মাছ সরবরাহ, মলাচাষ ও আহরণ পদ্ধতির উদ্ভাবন, তেলাপিয়ার জাত উন্নয়ন এ অঞ্চলের মৎস্য চাষ সম্প্রসারণে প্রশংসনীয় ভুমিকা রেখেছে। প্রকল্পভুক্ত স্থানীয় সেবাদানকারীরা ও তাদের তথ্য ব্যাংক কৃষি ‘ইয়েলো পেইজ’ মোবাইল অ্যাপস মৎস্য অধিপ্তরের কার্যক্রমকে আরো সম্প্রসারিত করতে সহায়তা করবে।’

প্রকল্পের চিফ অব পার্টি হেনরিক জে কেউস তার বক্তব্যে বলেন, ‘মৎস্য অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কারণেই এ প্রকল্পের মাধ্যমে অনেক ধরনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম করা সম্ভব হয়েছে। তবে এসব উদ্ভাবন মৎস্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করে আরো এগিয়ে নিতে হবে।’

প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়ন হওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এআইএন প্রকল্পের ডেপুটি চিফ অব পার্টি নাসিম আহমেদ আলীম ও বরিশালের প্রজেক্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ জাকির হোসেন। কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা, মৎস্য চাষি, স্থানীয় সেবাদানকারী ও ইউএসএআইডি বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় আরো জানানো হয়, মাছ চাষের মাধ্যমে আয় ও পুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে ২০১১ সালে ইউএসএআইডির অর্থায়নে ইউএসএআইডি-এআইএন প্রকল্প বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২০ জেলায় কাজ শুরু করে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগের ৩২টি হ্যাচারি মালিক, ২০৫ নার্সারি মালিক, ৪১১ পাতিলওয়ালা, ২৩টি ফিডমিল কর্তৃপক্ষ ও ৭০৩৫২ চাষিকে মাছ চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশপাশি এ অঞ্চলের হ্যাচারিতে ১৪ দশমিক ২ মেট্রিক টন ব্রুড মাছ বিতরণ করা হয়, যার মাধ্যমে ৮৯০ মিলিয়ন উন্নত মানের কার্প পোনা উৎপাদিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.