আজ : ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

বিজয় উৎসবে আনন্দের ঝরনাধারা

যুদ্ধাপরাধী, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার শপথ, দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা এবং জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে এবারের মহান বিজয় দিবস। শুক্রবার ৪৬তম দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা, স্বাধীনতা স্তম্ভে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করে জাতি। দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে সহস্র কণ্ঠে গীত হয় জাতীয় সঙ্গীত। প্যারেড গ্রাউন্ডের কুচকাওয়াজে রাষ্ট্রপতি সালাম গ্রহণ করেন। শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন দেশবাসী। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেন বিশেষ বাণী। ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বিজয়ের এই দিনে ঢাকাসহ সারা দেশে ছিল উৎসবের আমেজ। এদিন ছিল সরকারি ছুটি। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় রাতে আলোকসজ্জা করা হয়। প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো সাজানো ছিল জাতীয় পতাকা ও রঙবেরঙের কাগজে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বেতার ও টেলিভিশনেও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয়। জেলখানা, হাসপাতাল, এতিমখানা ও শিশু সদনগুলোয় পরিবেশন করা হয় উন্নত খাবার। ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শেরেবাংলা নগরে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে (পুরনো বিমানবন্দর) ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাভারে স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীর সেনানীদের শ্রদ্ধা জানান। তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সালাম জানায়। শহীদদের স্মরণে বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে দ্বিতীয় দফা স্মৃতিসৌধে ফুল দেন শেখ হাসিনা। এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যরা শ্রদ্ধা জানান। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা, তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দলের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানায়। স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর পতাকা আর ফুল হাতে জনতার ঢল নামে, সন্তান কোলে ছিলেন মা-বাবা। সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে মুক্তি সেনানীদের শ্রদ্ধা জানান। ফুলে ফুলে ভরে ওঠে শহীদের স্মৃতির মিনার। তারা দৃপ্তকণ্ঠে বাকি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করা, জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ, অসাম্প্রদায়িক, জঙ্গিবাদমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সাভার থেকে ফিরে সকাল ৮টায় ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ও পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। তার পাশাপাশি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়াও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপসহ আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর শ্রদ্ধা জানায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম এবং সমমনা সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ। এরপর প্রধানমন্ত্রী জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে গিয়ে কুচকাওয়াজে যোগ দেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও বিজয় দিবসের সালাম গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি প্যারেড স্কয়ারে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা তাকে স্বাগত জানান। একটি খোলা জিপে চড়ে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি অভিবাদন মঞ্চে দাঁড়িয়ে সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা, বিদেশী রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন মিশনের প্রধান এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিএনসিসি, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এ কুচকাওয়াজে অংশ নেন। গতবারের মতো এবারও কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনীর একটি নারী কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানায়। এদিকে পাকবাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় ৪টা ৩১ মিনিটের মুহূর্তকে স্থায়ী রূপ দিতে তৃতীয়বারের মতো শুক্রবার সহস কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। ’৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক এ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল পাকবাহিনী। ‘বিজয় দিবস উদযাপন জাতীয় কমিটি’ এর আয়োজন করে। উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা। এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দিনব্যাপী বিজয় দিবসের নানা কর্মসূচি পালিত হয়। শিখা চিরন্তনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের ভিড় ছিল স্বাধীনতা স্তম্ভেও। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি এবং টিএসসি ছিল কর্মসূচিতে ঠাসা। এদিন শহীদ মিনার, টিএসসিসহ চিড়িয়াখানা, হাতিরঝিল ছিল লোকে-লোকারণ্য। দিনভর এসব স্থানে বিজয়ের আনন্দমুখর অনুষ্ঠান নানা শ্রেণীর মানুষ উপভোগ করেন। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বঙ্গভবনে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সম্মানে এক সংবর্ধনার আয়োজন করেন। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার পাঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরাবরের মতোই এবারও বিজয় র‌্যালি করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটি বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বাইরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে শিখা চিরন্তনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটের সামনে থেকে মিছিলসহ ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে পৌঁছায়। নেতাকর্মীরা ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে বাদ্য-বাজনা বাজিয়ে, ব্যানার-প্ল্যাকার্ডসহ র‌্যালিতে অংশ নেন। বিজয় র‌্যালির উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এদিকে আওয়ামী লীগের আরেকটি প্রতিনিধি দল বিজয় দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানায়। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খানের নেতৃত্বে এ দলে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এসএম কামাল হোসেন প্রমুখ। বেলা ১১টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতাসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও ঢাকা জেলা বিএনপি সভাপতি ডা. সালাউদ্দিন বাবু, সাভার ও আশুলিয়ার বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, কৃষক দল, শ্রমিক দলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। পরে শেরেবাংলা নগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীরউত্তমের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) পক্ষ থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহসান হাবিব লাবলু, রুহিন হোসেন প্রিন্সসহ অন্য নেতারা। মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানায় জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এসএমএম আলম, খালেকুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ। বিজয় দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সাইকেল শোভাযাত্রা করেছে বাংলাদেশ সাইকেল লেন বাস্তবায়ন পরিষদ। বেলা ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে টিএসসি রাজু ভাস্কর্যে এসে এই শোভাযাত্রা শেষ হয়। ‘আমার সোনার বাংলাদেশ, সবার চেয়ে বেশ’- এই স্লোগান নিয়ে আয়োজিত এই সাইকেল শোভাযাত্রার সূচনায় শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাফর আহমেদ খান। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় মন্দির ঢাকেশ্বরীতে শুক্রবার দুপুরে বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। যথাযথ কর্মসূচির মাধ্যমে পাকিস্তানের করাচির হাইকমিশনেও বিজয় উদযাপন করা হয়। বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ উপলক্ষে বিজিবির সদর দফতর পিলখানাসহ বাহিনীর সব রিজিয়ন, সেক্টর ব্যাটালিয়ন ও ইউনিটগুলোতে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করা হয় বলে বিজিবির জনংযোগ জানায়। ৫টি স্মারক ডাকটিকিট উন্মুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী : ৪৬তম বিজয় দিবস উপলক্ষে ৫টি স্মারক ডাকটিকিট, ২টি উদ্বোধনী খাম, ২টি ডাটা কার্ড এবং একটি স্যুভেনির অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শুক্রবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ডাক বিভাগের এগুলো অবমুক্ত করেন। এ সময় একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, ডাক ও টেলিযোগযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, ডাক ও টেলিযোগযোগ সচিব মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তিকে একমঞ্চে আসার আহ্বান কাদেরের : জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে একমঞ্চে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছবে বাংলাদেশ। জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি বিচারাধীন। বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন। মুক্তিযুদ্ধের জীবনাদর্শ থেকে দেশ গড়ার শপথ নিতে হবে : সাভার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ সন্তানরা দেশমাতৃকার জন্য যে আত্মদান করে গেছেন- তাদের জীবনাদর্শ থেকে আমাদের দেশ গড়ার শপথ নিতে হবে। এ সময় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, এসএম ফয়সল চিশতী ও ফখরুল ইমাম এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান শওকত চৌধুরী এমপি, যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম ওমর এমপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, শান্তি, সমৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে দলমত নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষ উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। তাহলেই এ বিজয়ের সার্থকতা লাভ করবে। রাজারবাগ পুলিশ লাইন স্মৃতিস্তম্ভে সকাল ৭টায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান সারা দেশেই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরপর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা। এদিকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বিজয় র‌্যালির মাধ্যমে রাজধানীর ডেমরার চৌরাস্তা চত্বরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পর্যায়ক্রমে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় এলাকাবাসী। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ডেমরার ২৫টি স্পটে বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, যেমন খুশি তেমন সাজো, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্রপ্রদর্শনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ডেমরার সারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনের শুরুতেই সাড়ম্বরে বিজয় উদযাপনে অংশ নেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যরা। সভাপতি শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রেস ক্লাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য গোলাম সারওয়ার, কোষাধ্যক্ষ কার্তিক চ্যাটার্জি, সদস্য সাইফুল আলম, আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, কবি হেলাল হাফিজ, শামসুদ্দিন আহমেদ, স্বপন দাসগুপ্ত প্রমুখ। এদিকে স্টাফ রিপোর্টার, সাভার ও আশুলিয়া (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, সকালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ ভিআইপিদের শ্রদ্ধা জানানোর পর জাতীয় স্মৃতিসৌধ খুলে দেয়া হয় সবার জন্য। পতাকা আর ফুল হাতে জনতার ঢল নামে সৌধ প্রাঙ্গণে। ফুলে ফুলে ভরে উঠতে থাকে শহীদের স্মৃতির মিনার। বিজয়ের উচ্ছ্বাসে উদ্ভাসিত সূর্যের মতোই আলোকিত করে জাতির সূর্য সন্তানদের। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ঢলও বাড়তে থাকে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, বিকল্পধারা, জাকের পার্টি, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন দুগ্ধ খামার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ঢাবি এবং এর বিভিন্ন হল, জাবির বিভিন্ন হল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সিআরপি, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ন্যাপ, জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, সাম্যবাদী দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.