আজ : ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

বাবুগঞ্জে করোনা দুর্ভোগে একই বাড়ীর ১৪ পরিবার ক্ষুধার যন্ত্রনায় কাতর !!

এম.জামাল হোসেন : বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার একই বাড়ীর ১৪ পরিবার ক্ষুধার যন্ত্রনায় কাতর হয়ে গেছে। খাদ্যকষ্ট এতোটাই চেপে বসেছে তারা এখন তিন বেলা খাবারের পরিবর্তে ১ বেলা করে খেয়ে দিন কাটানো শুরু করেছে। এখনো ওই পরিবারগুলো কোন সাহায্য না পাওয়ায় এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময় ফের বাড়ানোর কারনে ত্রান সাহায্যের আর্তনাতের আওয়াজে ভারী হয়ে উঠেছে আশপাশ এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।
বাবুগঞ্জ মাধবপাশা ইউনিয়নের ৮ নং হিজলা গ্রামের সালাম খানের বাড়ীতে (ইউনিক পেট্রোল পাম্পের বিপরীতে) সরেজমিনে এ তথ্য পাওয়া যায়। খোজ নিয়ে জানা যায়,ওই বাড়ীতে ১৪ টি পরিবার বসবাস করছে। তার মধ্যে রাশিদা বেগম প্রতিবন্ধী। করুন জীবন যাপন করছেন তিনি। তার ভাষ্য,বাবা ঘরের খাবার ফুরিয়ে গেছে। কোন সাহায্য আসছে না। কি হবে জানিনা। ওই বাড়ীর সালাম খানের সাথে কথা হলো,তিনি জানান, অমৃত কোম্পানিতে দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে কাজ করে সংসার চালাতে হয়। কোম্পানি তো দুরের কথা কেউ এখনো আমাদের কোন সাহায্য করেনি। তিন বেলার জায়গায় এক বেলা খাবার খাই। কষ্টের যন্ত্রনা বুঝাতে পারবো না। কথা হয় ৭০ বছরের বৃদ্ধ কামাল হোসেনের সাথে তিনি বলেন,আমাদের বাড়ীতে ১৪টি পরিবার রয়েছে সবাই দিন মজুর। প্রত্যেকের ঘরে ছেলে মেয়েসহ ৫ থেকে ৮ জন করে সদস্য রয়েছে। কারো ঘরে কোন মজুদ খাবার নেই। এখনই তিন বেলার জায়গায় এক বেলা দুই বেলা খাবার খেতে হয়। ছেলে মেয়েরা ক্ষুধার যন্ত্রনায় চিল্লাপাল্লা করছে। আমাদের দিকে খেয়াল না রাখলে বেচেঁ থাকা দায় হয়ে উঠবে। এদিকে ওই বাড়ীর আশেপাশে ঘুরে দেখা যায়,জমাদ্দার বাড়ীতে ৯টি পরিবার রয়েছে তাদের অবস্থাও বেশ করুন। হিজলা গ্রামের পাংশা মোশারেফ হোসেন সড়ক’র ভিতর ৩টি পরিবার রয়েছে। নূরু-সোহেল ও হারুনের মা নামে এক বৃদ্ধ মহিলার পরিবার থাকে সে বাড়ীতে। দারুন ভাবে খাদ্য অভাব দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে। এ বিষয়ে মধাব পাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন ও হিজলা ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বর ফিরোজের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের কাউকেই মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে সে এলাকার সচেতন নারী হিসেবে পরিচিত শাফিয়া বেগম জানান,এখানকার হিজলা গ্রামের ও পাংশা গ্রামের বেশ কিছু পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের সহযোগিতার জন্য এমপি ও চেয়ারম্যানদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.