আজ : ২১শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

বাকেরগঞ্জের কলসকাঠির প্রধান সড়কের বেহাল দশা, যেন দেখার কেউ নেই।

মোঃবশির আহাম্মেদ : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে- ভায়া ডিঙ্গার হাট হয়ে কলসকাঠি বন্দরে জনগুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এ রাস্তা দিয়ে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। মাঝে মধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ অবস্থায় রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা জানান, ১৪ টি ইউনিয়ন নিয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা এই উপজেলার দাড়িয়াল, দুধাল, দুর্গপাশা, ফরিদপুর, কবাই, নলুয়া, সহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ উপজেলা শহরে আসতে হলে এই সড়কের উপর দিয়ে আসতে হয়। কলসকাঠি বাকেরগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ইউনিয়ন এই ইউনিয়নের একমাত্র প্রধান সড়ক বেহাল দশায় নিপাতিত সংস্কার নেই দীর্ঘদিন। ফলে রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে ছোটবড় অনেক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দু’ধার ভেঙে গিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে পাকা রাস্তাটি। অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। বাকেরগঞ্জ থেকে কলসকাঠি বন্দরে যাওয়ার ১২ কিলোমিটার সড়কে কয়েক হাজার খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। চালকদের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে যেখানে সেখানে যানবাহনের চাকা বসে যাচ্ছে। বিকল হচ্ছে গাড়ি, আতঙ্কে থাকছে যাত্রীরা। এ সড়কটি পদ্মার ঢেউকে স্মরণ করিয়ে দেয় যাত্রীদেরকে। কারণ সড়কের অনেক জায়গায় নালার মতও হয়েছে। নৌকার মত দুলতে থাকে গাড়ি। চলতি বর্ষা মৌসুমে এদুর্ভোগ আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা বরিশাল ও বাকেরগঞ্জ সদর থেকে কলসকাঠি বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রাক এবং অটো, ভ্যান, মোটরসাইকেল সহ প্রায় হাজার খানেক পরিবহন চলাচল করে। যাত্রীসাধারণকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। সড়কটি এখন যান ও যাত্রীদের জন্য পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে। ইতোমধ্যে এ সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হাত, পা, বিকল হয়েছেন অনেক যাত্রী। গত দুই মাসে এ সড়কে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশত যাত্রী।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার খাদ্যগুদামটি কলসকাঠি বন্দরে অবস্থিত। এখানে ডিগ্রী কলেজ আলিম,দাখিল মাদ্রাসা, মাধ্যমিক, বালিকা বিদ্যালয়, প্রাথমিক, কিন্ডারগার্টেন সহ ৪২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ বন্দরে চারটি ব্যাংক রয়েছে যেমন জনতা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এখানে সপ্তাহে দুইদিন হাট বসে এবং দূর দূরান্ত থেকে হাজার হাজার জনগণ পাইকারি ও খুরচা মালামাল ক্রয়ের জন্য আসেন। বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠি বন্দরটি ঐতিহ্য বাহি বন্দর। এখানে একসময় ১৩ টি জমিদারের বাড়ি বিদ্যমান ছিল। সেই জমিদারেরাই দক্ষিণবঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে ছিলেন।কালের পরিবর্তনে সেই জমিদারের বাড়িগুলো এখন মুসলমানরা ভোগ দখল করে আসছেন। বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠির সাড়ে ছয় লক্ষ জনসাধারণ এ সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.