আজ : ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ ইং , ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

প্রধানমন্ত্রী :জঙ্গিবাদের মদদদাতাদেরও বিচার হবে:

ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গিবাদের মদদদাতাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার রিজ কার্লটন হোটেলে আওয়ামী লীগের ওয়াশিংটন শাখার নেতাকর্মীদের এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। খবর বাসসের।

তিনি বলেন, অর্থ ও নির্দেশ দিয়ে যারা দেশে জঙ্গিবাদে মদদ যোগাচ্ছে ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা এবং পেট্রোল বোমা মেরে নিরীহ জনগণকে পুড়িয়ে মারছে তাদেরকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

বিএনপি-জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা রুজু প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এসব রাজনৈতিক মামলা নয়, এসব জনগণকে পুড়িয়ে মারার মামলা।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা অপরাধী তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। এছাড়া যারা অপরাধীদের সহায়তা করেছে, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছে তাদেরকেও অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে। এ সময়ে শত শত দলীয় সমর্থক বিচারের সমর্থনে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিদেশীদের ওপর নির্ভর ও দেশের রাজনীতি নিয়ে তাদের কাছে সারবস্তুহীন ঢালাও অভিযোগ করার জন্যে বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের শক্তির ওপর তাদের কোন আস্থা নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ৭০ বছরে পা রেখেছেন। কিন্তু জাঁকজমকপূর্ণ কোন আয়োজন না করেই তাঁর জন্মদিন পালন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যের কল্যাণে স্বার্থত্যাগের বিষয়টি বাল্যকালেই তিনি তাঁর মরহুম পিতা-মাতার কাছ থেকে শিখেছিলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যখন ওই সময়ে খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্যে সংগ্রাম চালাচ্ছে তখন তার পরিবারের সদস্যরা কখনই জাঁকজমকভাবে জন্মদিন পালন করেননি। প্রধানমন্ত্রী সব্যসাচী লেখক ও কবি সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন। নিউইয়র্কে আসার আগে তিনি হাসপাতালে এই কবিকে দেখতে গিয়েছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জন্মদিন উদযাপনের জন্যে কেক কাটা আমার পছন্দ নয়। দেশের নির্যাতিত ও নিপীড়িত জনগণের মুখে হাসি ফোটাতে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর জেনারেল জিয়ার সামরিক জান্তাদের বিভিন্ন বাধার মুখোমুখী হওয়ার পাশাপাশি নিজ দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখী হতে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কঠিন সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, বড় নেতারা ভুল করেছে তবে তৃণমূল কর্মীরা ভুল করেননি।

তিনি বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী শাসনকালে জিয়া, খালেদা ও এরশাদ আমলে সরকার ছিল সবচেয়ে দুর্বল এবং ওই শাসকরা ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন অথবা ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা ইস্যু উত্থাপনে কখনোই সাহস পায়নি।

দীর্ঘ ৬৮ বছর পর তাঁর সরকার ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় করে এবং প্রতিবেশী দুই দেশ ভারত ও মায়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতে শান্তিপূর্ণভাবে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করে। যা বিশ্বে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সহিংস চরমপন্থার বিরুদ্ধে প্রবাসীদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। এর কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশীকে জীবন দিতে হয়েছে। এখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের হত্যা গ্রহণযোগ্য নয়। সব জায়গায়ই সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, এজন্য সবাইকে আরো সজাগ থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.