আজ : ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

পুত্র সন্তান লাভে ভারতীয় পত্রিকার কিছু টিপস

ভারতীয় একটি সংবাদপত্র পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যাপারে তার পাঠকদের কিছু বুদ্ধি-পরামর্শ বা টিপস দিয়েছে।
পত্রিকাটি বলছে, এসব মানা হলে কন্যা সন্তানের পরিবর্তে পুত্র সন্তানের জন্ম হতে পারে।
পত্রিকাটি যেসব টিপস দিয়েছে সেগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
এসব টিপসের মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য মা-কে প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে এবং পশ্চিম দিকে মুখ দিয়ে ঘুমাতে হবে।
সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে সেটা নির্ভর করে পিতার শুক্রাণুতে থাকা ক্রোমোজোমের ওপর।
দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালা রাজ্য থেকে এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। নাম মঙ্গালাম।
যারা পুত্র সন্তান লাভ করতে চান তাদের জন্যে এই পত্রিকাটি ৬টি টিপস দিয়েছে।
ভারতে কন্যার চাইতে পুত্র সন্তানের ব্যাপারেই সমাজের আগ্রহ বেশি।

লন্ডনে পোর্টল্যান্ড হাসপাতালের একজন চিকিৎসক ড. সাজিয়া মালিক পত্রিকাটির দেওয়া এসব টিপসের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “ছেলে নাকি মেয়ে জন্ম হবে সেটা আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।”
“পত্রিকাটিতে যেসব টিপস দেওয়া হয়েছে সেগুলোর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি নেই। যখন প্রাকৃতিকভাবে কেউ গর্ভধারণ করেন তখন এটা সম্ভব নয় ছেলে বা মেয়ে নির্ধারণ করে দেওয়া,” বলেন তিনি।
পত্রিকাটিতে যেসব পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- প্রতিদিন সকালে হবু মায়ের নাস্তা করা, সপ্তাহের বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে সেক্স করা, বিশেষ করে যখন পুরুষের শুক্রাণু শক্তিশালী থাকে তখন।
পত্রিকাটি বলছে, এসিডিক খাবার পরিহারের মাধ্যমে পুরুষ তাদের শুক্রাণুর শক্তি ধরে রাখতে পারে।
তবে শুক্রাণুর শক্তি নবজাতকের লিঙ্গ নির্ধারণ করে না।

শুক্রাণুর শক্তির ওপরে শিশুটি ছেলে নাকি মেয়ে হবে সেটা নির্ভর করে না
ছেলে শিশু জন্মানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে- ওয়াই ক্রোমোজোম বহনকারী শুক্রাণু নিষিক্ত হওয়া।
ভারতে লিঙ্গ নির্ধারণ করে সন্তানের জন্মদান অবৈধ।
কোন লিঙ্গ জানতে ভারতে ভ্রূণের পরীক্ষা আইনত নিষিদ্ধ। তবে সংবাদদাতারা বলছেন, এই আইন ভঙ্গ করে এধরনের পরীক্ষা গোপনে চলছে। এবং কন্যা সন্তান হলে গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে।
১৯৬১ সালের সমীক্ষায় দেখা যায় প্রতি এক হাজার ছেলে শিশুর বিপরীতে ছিলো ৯৭৬ জন কন্যা শিশু। কিন্তু ২০১১ সালের সমীক্ষায় কন্যা শিশুর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৯১৪।
ভারতে সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, মঙ্গালাম পত্রিকার এই নিবন্ধ বড় ধরনের কোন প্রভাব ফেলবে না। এর ফলে যে কন্যা ভ্রূণ হত্যা কমবে সেটাও বলা যাবে না। কারণ এটি সংখ্যালঘুদের এক ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।
এধরনের টিপস দেওয়ায় অনেকে পত্রিকাটির সমালোচনাও করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.