আজ : ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

জয় শেখ হাসিনার নৌকার

বিশাল ব্যবধানে ধানের শীষকে হারিয়ে নৌকা প্রতীকের জয় হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী আবারও তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ রাখলেন।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী মোট ১৭৪ ভোট কেন্দ্রে নৌকা পেয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬১১ ভোট। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের ধানের শীষ পেয়েছে ৯৬ হাজার ৪৪ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তা নূরুজ্জামান তালুকদার রাত সাড়ে ১১টায় বেসরকারিভাবে ফলাফল এবং মেয়র হিসেবে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি জানান, এবার ভোট পড়েছে ৬২.৩৩ শতাংশ। ৭৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় মেয়াদে নগরপিতা নির্বাচিত হলেন আইভী। তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকেই বেছে নিলেন নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা। এদিকে আগামীকাল রাত ১২টা পর্যন্ত সভা-সমাবেশ কিংবা মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

চূড়ান্ত বেসরকারি ফল ঘোষণা করার আগেই নৌকার শিবিরে শুরু হয় উল্লাস। নারায়ণগঞ্জ ক্লাব কমিউনিটি সেন্টারে ফলাফল সংগ্রহ কেন্দ্রের আশপাশ এলাকায় উল্লাসে ফেটে পড়েন হাজার হাজার নৌকা সমর্থক। নৌকার স্লোগানে মুখরিত হয় গোটা এলাকা। এ সময় ওই এলাকায় পটকা ফোটানোর শব্দ পাওয়া যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। ২০১১ সালে সিটি করপোরেশনের নির্দলীয় নির্বাচনে সেলিনা হায়াৎ আইভী ১ লাখ ১ হাজার ৩৪৩ ভোটে পরাজিত করেন নিজের দলেরই আরেক প্রার্থী শামীম ওসমানকে। সেবার আইভী পান ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৮ ভোট। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত শামীম ওসমান ৭৮ হাজার ৭০৫ ভোট। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার পান ৭ হাজার ৬১৬ ভোট। ভোটের আগের রাতে দলীয় সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৯২ বা ৬৯.৯২ শতাংশ। বিজয়ের পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আইভী বলেছেন, ‘এ বিজয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও সব মুক্তিযোদ্ধার নামে উৎসর্গ করলাম। যারা আমার বিজয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের নিয়েই ভবিষ্যতে পথ চলতে চাই। একই সঙ্গে চাই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে। ’ তবে তাত্ক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি সাখাওয়াত হোসেন খান।
গতকাল সকাল ৮টায় শুরু হয়ে টানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৩১ জন। ভোট পড়ে ৬২.৩৩ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র পদে সাতজন, ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৮ আর ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৫৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মেয়র পদে আইভী ও সাখাওয়াত ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাসুম বিল্লাহ ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ১৩ হাজার ৯১৪, ইসলামী ঐক্যজোটের মুফতি এজহারুল হক ‘মিনার’ প্রতীকে ৯১০, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মাহবুবুর রহমান ইসমাইল ‘কোদাল’ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭৪, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির রাশেদ ফেরদৌস ‘হাতঘড়ি’ প্রতীকে ৪৮০ ও এলডিপির কামাল প্রধান পেয়েছেন ‘ছাতা’ প্রতীকে ৪৩২ ভোট।

সকালে ভোট দেওয়ার পর আইভী ও সাখাওয়াত দুজনই বলেন, সুষ্ঠু ভোট হলে ফলাফল মেনে নেবেন। বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবেও এ ঘোষণা দেয়। তবে নারায়ণগঞ্জ ক্লাব চত্বরে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে সাখাওয়াত সমর্থকরা আস্তে আস্তে সরে যেতে থাকেন। রাজধানীর নয়াপল্টনে নির্বাচন মনিটরে থাকা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারাও ছিলেন হতাশ। গুলশান কার্যালয়ে থাকা আরেকটি মনিটরিং সেলের নেতাদের মধ্যে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। ফলাফল ঘোষণার সময় আইভী বাসায় অবস্থান করছিলেন। সাখাওয়াত ছিলেন শায়েস্তা খান সড়কে দলীয় মিডিয়া সেন্টারে।

আইভী রাত ১০টা পর্যন্ত নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। ঘর থেকে বেরিয়ে হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাবও দেন তিনি। এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকেই আইভীর মিডিয়া সেলে পৌঁছে যায় ১৩৫ কেন্দ্রের ফলাফলে ‘বিজয়ের খবর’।ও সাত খুনের মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী হিসেবে আলোচনায় আসেন সাম্প্রতিক সময়ে। তিনি ঘোষণা দেন, এবার আর বর্জন নয়, ভোটের শেষ পর্যন্ত থাকবেন। ভোট সুষ্ঠু হলে ফল মেনেও নেবেন। অন?্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আইভী সকালে ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনের সময় পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও আনন্দঘন থাকে। সুবাতাসই বইছে। জনতার রায় আমি মানি। তারা যে রায় দেবেন তা মাথা পেতে নেব। ’ এদিকে সাখাওয়াতের ধানের শীষ তার নিজ কেন্দ্রে আইভীর নৌকার কাছে হেরেছে প্রায় ১ হাজার ভোটের ব?্যবধানে। আর আইভী তার নিজের কেন্দ্রেও বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়েছেন প্রায় সমান ভোটে। আইভীর বাবা আলী আহমদ চুনকা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। ১৯৬৬ সালের ৫ জুন জন্ম নেওয়া আইভী পেশায় একজন চিকিৎসক। আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপের নারায়ণগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক তিনি। ১৯৯২ সালে রাশিয়ার ওডেসা পিগারভ মেডিকেল ইনস্টিটিউটে ডক্টর অব মেডিসিন (এমডি) ডিগ্রি নেওয়ার পর মিটফোর্ড হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করেন আইভী। এরপর ১৯৯৪ সাল থেকে এক বছর নারায়ণগঞ্জের ২০০ শয্যা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পর উচ্চতর পড়াশোনা করতে যান নিউজিল্যান্ডে। সেখান থেকে ২০০২ সালে ফিরে পরের বছর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে প্রথম নারী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তিনি। নগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি শুরু করা আইভী এখন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। আইভী ও তার স্বামী কাজী আহসান হায়াতের দুটি ছেলে রয়েছে। এ ছাড়া ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে বিএনপি ১৪, আওয়ামী লীগ ১১ ও জাতীয় পার্টি ২টিতে বিজয়ী হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.