আজ : ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং , ৩রা আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Breaking News

চাউল চুরি খেলার বিজয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন

মোঃ বশির আহাম্মেদ ঃ বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ ফারুক হোসেনের কারসাজিতে সরকারি চাউল পাচার ঘটনার ফাইনাল খেলার বিজয় নিশ্চিত করলো বরগুনার নবযোগদানকারী ওসিএলএসডি আবু বকর। এ খেলায় ফারুক হোসেন রেফারির দায়িত্ব পালন করলেও টিমের অধিনায়ক ছিলেন আবু বকর। এই চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের নজিরবিহীন নাটকীয়তার বিভিন্ন পর্বে আবু বকরের রহস্যজনক ভূমিকা থাকলেও অাদতে পর্দার অন্তরালের নায়ক ছিলেন আঞ্চলিক কর্মকর্তা ফারুক হোসেন।
এ নাটকীয় ঘটনার প্রথম দিকের বিভিন্ন পর্বে সংশ্লিষ্টরা দ্বন্দ্বের দোলাচলে দুললেও চূরান্ত পর্বে বেরিয়ে পরে ফারুক হোসেনের ভয়াবহ অপতৎপরতা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, বরগুনার চাউল পাচার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। এ কারণে ছকবাঁধা পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজয় ছিনিয়ে নেয় চোরাকারবারি সিন্ডিকেট। জানা গেছে, নবযোগদানকারী ওসিএলএসডি আবু বকর খাদ্য গুদামের মজুদকৃত চাউলের বিপুল পরিমান ঘাটতির দায় নিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিতে অস্বীকৃতি
জানায়।
এ কারনেই আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন তাকে ব্যাপক চাপের মধ্যে রাখলেও ঘাড় বাঁকা করে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০ লাখ টাকার রফাদফার মাধ্যমে দায়িত্ব বুঝে নেন। সূত্রের দাবি, ওই টাকার একাংশ দিয়ে ডিও চাউল ক্রায় করে সমন্বয় করার কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। এই চাউল চুরির কেলেঙ্কারির আগেও আব্দুল্লাহ আল মামুন কাগজে ২৮০০ মেট্রিকটন ধান ক্রয় দিখিয়ে ছিলেন। মূলত ধান ক্রয় করা হয়েছে ৯৮৫ মেট্রিকটন। এই ফাঁকিবাজির ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হয় প্রায় দুই কোটি টাকা। এ ঘটনাটিতেও সার্বিক সহযোগিতা করেছেন আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন।
বরিশাল বিভাগজুড়ে জেলা-উপজেলার খাদ্য বিভাগে ঘাঁটি গেড়ে বসেছে ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত রয়েছেন বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তাসহ পরিচ্ছন্নকর্মি পর্যন্ত।
ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে চোরাকারবারি পাকাপোক্ত করতে সুকৌশলে কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। একজন ওসিএলএসডি কে একেক সময় একেক উপজেলায় পাঠিয়ে লুটপাট করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি চাউল। ওসিএলএসডি আব্দুল্লাহ আল মামুন সরকারের চাল চুরি করে লোপাট করছে কোটি কোটি টাকা।
জানতে চাইলে বরিশাল বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন এধরণের ঘটনার কথা অস্বীকার করে চাউল চুরির ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালান। এরপর থানা এবং স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানতে চাইলে তিনি গড়িমসি করেন।
পরবর্তীতে ঘটনার বিস্তারিত জেনে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা জাকির হোসেন তালুকদার বাদী হয়ে ৯ জুন মঙ্গলবার বরগুনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৬/২০২০। এই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চলছে তদন্তের নামে নাটকীয় তৎপরতা। গণমাধ্যম কর্মিদের হাতে এই ঘটনার এতটি তদন্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যম কর্মিদের হাতে। ওই ৩ পৃষ্ঠার এডমিনতদন্ত প্রতিবেদনে বরিশাল বিভাগিও অঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালযের সহকারী রসায়নবিদ মোহাম্মদ বোরহান, বরগুনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জাকির হোসেন তালুকদার এবং
বরিশাল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ তাজুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে। কিন্তুু রহস্যজনক কারনে প্রতিবেদনটি অস্বীকার করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই ঘটনার জের ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বরগুনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক( ভারপ্রাপ্ত) জাকির হোসেন তালুকদার কে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারুক হোসেন বদলি করে দেয়ার সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় আব্দুল্লাহ আল মামুন পেশাদারিত্ব ভুলে অপকর্ম নিয়েই ব্যস্ত থাকেন।বরগুনা চাউল চুরির ঘটনার অাগেও বরিশাল সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব থাকাকালীন ২০ টন চাউল পাচার কালে বরিশাল
র‌্যাব -৮ এর একটি বিশেষ টিম তাকে অাটক করে
পরে গ্রেফতার দেখিয়ে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। এই ঘটনায় বিভাগীয় বিচারের নামে করা হয় প্রহসন। খাদ্য অধিদপ্তরের ২০১৭ সালের ২৮ আগস্ট ৮১৫ নং স্মারকে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ১৯৮৫ এর বিধি ৩ এর (এ) ও( বি) মোতাবেক অদক্ষ ও অসদাচারণের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দেখানো হয়।
তিরস্কার দন্ড প্রদান পূর্বক বিভাগীয় মামলা নিষ্পত্তি সিদ্ধান্ত গৃহীত দেয়া হয়। দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের জন্য লঘু দন্ডে দণ্ডিত হলে এমন কর্মকর্তাকে দণ্ড প্রদানের তারিখ হইতে তিন বছর পর্যন্ত গুদামে নিয়োগ দেয়া যাবে না মর্মে আদেশ দেয়া হয়।
কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাত্র ৩ মাসের মাথায় বরগুনা খাদ্য গুদামে ওসি এলএসডি পদে চাউল চোর মানুনকে পদায়ন করা হয়। তৎকালীন আরসি ফুড রেজা মোহাম্মদ মহাসিন মোটা অংকের বিনিময়ে ধোকাবাজীর মাধ্যমে মন্ত্রনালয়ের আদেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বরগুনা খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি পদে এই চাউল চোরকে পদায়ন করেন।
এছাড়াও পটুয়াখালী সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকা অবস্থায় গম চুরি করার সময় পুলিশের হাতে আটক হয়। পটুয়াখালী গোডাউন এর কাছাকাছি ফায়ারসার্ভিস অফিস সংলগ্ন একটি অন্ধরমহলে হিন্দু নারী নিয়ে ফূর্তি করার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Comment moderation is enabled. Your comment may take some time to appear.